Celebrate

BD Legal News https://bdlegalnews.blogspot.com/2020/03/blog-post_15.html

ইসলামে সার্বভৌমত্ব বলতে যা বুঝায় তার বর্ণনা। ইসলামের ইতিহাস

ইসলামে সার্বভৌমত্ব বলতে যা বুঝায় তার বর্ণনা। ইসলামের ইতিহাস

ভূমিকাঃ Encyclopedia Of Britannica তে উল্লেখ আছে "Off all religious personalities of the world Muhammad was the most successful."
ইসলামে সার্বভৌমত্ব বলতে যা বুঝায় তার বর্ণনা। ইসলামের ইতিহাস

মূলত মুহাম্মাদ (স) তার যোগ্যতাবলেই মদিনাতে প্রতিষ্ঠিত করছিলেন একটি আর্দশ রাষ্ট্র। আর রাষ্ট্র মাত্রই চারটি বৈশিষ্ট্যর অধিকারী, যার মধ্যে সার্বভৌমত্ব সর্বশ্রেষ্ঠ। উল্লেখ থাকে যে, আধুনিক রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব বলতে যা বুঝানো হয়ে থাকে মদিনা রাষ্ট্র কিন্তু একটু ব্যতিক্রম ছিলো। অর্থাৎ সেখানে আধুনিক কালে রাষ্ট্রই হলো সার্বভৌমত্ব ক্ষমতার অধিকারী যেখানে মদিনা রাষ্ট্রের বা ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী একমাত্র আল্লাহ-তায়ালা।

সার্বভৌমত্বঃ বাংলা সার্বভৌমত্বের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Sovereignty' শব্দটি এসেছে ল্যাটিন Supernous & Sovrano শব্দদ্বয় থেকে। যার অর্থ Superme বা চুড়ান্ত ক্ষমতা। কাজেই শাব্দিক অর্থে সার্বভৌমত্ব হলো রাষ্ট্রের চুড়ান্ত ক্ষমতা। এ সার্বভৌমত্ব ক্ষমতাবলে রাষ্ট্র অভ্যন্তরীণ শক্তির অধিকারী, পাশাপাশি বহিঃশক্তির নিয়ন্ত্রণমুক্ত।

সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে ইসলামের ধারণাঃ অধ্যাপক রাফায়েল সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে বলেছেন, "সার্বভৌমত্ব হলো চরম ক্ষমতা এবং রাষ্ট্রই এ ক্ষমতার অধিকারী। তার এ ধারনা সাধারণ দৃষ্টিতে, অন্যদিকে ইসলামের দৃষ্টিতে সার্বভৌমত্বের ধারণা দিতে গিয়ে ঐতিহাসিক শিরওয়াগী ও লেভী যে মতামত ব্যক্ত করেছেন তা হলো, "ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ"।

আবার অনেকে মনে করেন "ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক হলেন পবিত্র আল কুরআন"। এছাড়াও বেশ কয়েকজন গবেষক মনে করেন "শরীয়াহ্-ই হচ্ছে মুসলিম রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।"

পবিত্র আল-কুরআনে উল্লেখ আছে যে, 'নিশ্চয় সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক হলেন আল্লাহ।"

আবার অনেকে মনে করেন বিশেষ করে ড. হোসাইনীর মতে, "সার্বভৌমত্ব সম্পর্কে অনেকের সাধারণ ধারণা না থাকায় এরূপ মতানৈক্যের সৃষ্টি হয়েছে।" কিন্তু হবস সার্বভৌমত্ব বলতে বিশেষ করে সার্বভৌম ক্ষমতার ক্ষেত্রে পূর্ণ স্বাধীনতায় বিশ্বাসী। তাঁর দৃষ্টিতে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তি কোনো অবস্থাতেই জনগণের নিকট দায়ী নন। তাই তিনি উল্লেখ করেছেন, "The Ruler was above his own law but under God's as under the law of nature."

আল্লাহ সার্বভৌমত্বঃ পূর্বেই উল্লেখ করা হয়েছে, ইসলামি রাষ্ট্রের সার্বভৌম ক্ষমতার মালিক একমাত্র আল্লাহ-তায়ালা। সৃষ্টিকর্তার অধিকার কখনো সৃষ্টি হতে পারে না। পবিত্র কুরআনে এ ব্যাপারে বলা হয়েছে, "আল্লাহ ছাড়া কারও আধিপত্য নেই। নভোমন্ডল, ভূমন্ডলে যা কিছু আছে তা তারই জন্য এবং মহান আল্লাহ মহাসম্পাদশালী ও প্রশংসিত। "

কালামে হাকীম পবিত্র আল কুরআনে এ ব্যাপারে আরো বলা হয়েছে যে, "বল, হে আল্লাহ! তুমিই রাজাধিপতি, তুমি যাকে ইচ্ছা করো রাজ্য দান করো, যার নিকট থেকে ইচ্ছা করো রাজ্য কেড়ে নাও; যাকে ইচ্ছা সম্মানিত করো, আবার যাকে ইচ্ছা লাঞ্চিত করো; তোমারই হাতে রয়েছে যাবতীয় কল্যাণ। নিশ্চয়ই তুমি সর্ব বিষয়ে শক্তিমান"- (সূরা-আল-ইমরান)

উপসংহারঃ উপর্যুক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি যে, মুহাম্মদ (স) ছিলেন পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী। কারণ তিনি ছিলেন মদিনা রাষ্ট্রের জনগণের নৈকট্য লাভের ক্ষেত্রে প্রশ্নাতীতভাবে সফল এবং আল্লাহ স্বয়ং তাঁকে এ ক্ষমতা প্রদান করেছেন। তবে অনেক ঐতিহাসিক ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী বলেছেন, "যেহেতু তিনি সরাসরি আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার করেন কাজেই তিনি সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী নন।" তাই পরিশেষে আমরা মধ্যম পন্থায় মতামত এভাবে ব্যক্ত করতে পারি যে, "যদি আল্লাহর আনুগত্য তার সার্বভৌমিকতার পথে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তাহলে হযরত মুহাম্মদ (স) একজন পরিপূর্ণভাবে সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী।" (বোদীন)

অন্যদের সাথে শেয়ার করুন

Xcumster
পোস্ট করেছেনঃ Xcumster
0 Comments

দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন ??

টেক জান প্রো কী?