BD Legal News
https://bdlegalnews.blogspot.com/2020/03/blog-post.html
পবিত্র আল কুরআনের সংরক্ষণ ও সংকলনের হতিহাস। ইসলামের ইতিহাস
পবিত্র আল কুরআনের সংরক্ষণ ও সংকলনের হতিহাস।
ভূমিকাঃ বর্তামানে আমাদের কাছে যে কুরআন শরীফ রয়েছে তা হুবাহু সেই গ্রন্থ, যা আল্লাহতাআল্লাহ হযরত জিবরাইল (আ) এর মাধ্যমে রাসূল (স) এর উপর নাজিল করেছেন।
আল্লাহতাআল্লাহ ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি এবং তা আমিই হেফাজত করবো। আর এ ঐশিগ্রন্থ আল কুরআন লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিলো। রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে গ্রন্থখানা অবতীর্ণ হয়।
১. মহানবী (স) এর জীবদ্দশায় কুরআন সংরক্ষনঃ
হযরত মুহাম্মদ (স) এর নবুয়ত লাভের পর হতে প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুসারে কুরআনের খন্ড খন্ড অংশ নাজিল হতো। যখন কুরআন নাজিল হতো তখন তিনি দুটি উপায়ে সংরক্ষন করতেন। পবিত্র কুরআন নাজিল হওয়ার মুহূর্তেই ওহি লেখক দ্বারা মহানবীর নির্দেশমতো পূর্বে অবতীর্ণ আয়াতের সাথে যথাস্থানে লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষনের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এজন্য মহানবী (স) এর সচিবলায় ওহি লিখন বিভাগ নামে একটি স্বনন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ওহি লিখন বিভাগের সাথে সার্বক্ষণিক জড়িত ছিলেন হযরত যায়েদ বিন সাবিত। তিনি বলেছেন আমি মহানবী (স) এর নিকট অবতীর্ণ ওহি চামড়ায় কিংবা খেজুরের পাতায় লিপিবদ্ধ করতাম। যায়েদ বিন সাবিত ছাড়াও প্রায় ৪০ জন ওহি লেখক ছিলেন। তখন আয়াতসমূহ তালপত্র, চামড়া, পাথর ইত্যাদিতে সংরক্ষিত হতো।
হযরত মুহাম্মদ (স) এর জীবদ্দশায় সম্পূর্ন লিখিত অবস্থায় কুরআনের অস্তিত্ব ছিলো না। কুরআন তখনও হযরত মুহাম্মদ (স) এর শিষ্যদের স্মৃতিতে ধারাবাহিকভাবে হেফাজত ছিলো। তখন সাহাবায়ে কেরামগন আয়াত নাজিল হওয়ার সাথে সাথে মুখস্ত করে রাখতেন। এভাবে তখন হাফেজদের স্মৃতিতে কুরআনের আয়াতসমূহ সংরক্ষিত হতো।
২. হযরত আবুবকর (রা) এর আমলে কুরআন সংরক্ষণঃ
৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে আবুবকর (রা) এর সময়ে খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে মুসায়লামার বিরুদ্ধে ইয়ামাময়ে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে বহুসংখ্যক হাফেজ শাহাদাৎ বরণ করেন। তাই হযরত ওমর (রা) হযরত আবুবকর (রা) কে কুরআন সংরক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। তখনই হযরত আবুবকর (রা) যায়েদ বিন সাবিতকে তলব করেন এবং তাঁকে কুরআনের একটি পান্ডুলিপি প্রণয়নের নির্দেশ দেন। যায়েদ বিন সাবিত বহু কষ্টে বিভিন্ন সাহাবাদের নিকট লিখিত কুরআন শরীফের বিচ্ছিন্ন পান্ডুলিপি জোগাড় করেন এবং সেগুলোকে হাফেজদের স্মৃতিতে সংরক্ষিত কুরআন শরীফের সাথে মিলিয়ে একটি প্রামাণ্য পান্ডুলিপি প্রস্তুত করেন। এটাই ছিল সমগ্র কুরআনের প্রথম সংকলন। পুস্তক আকারে সংকলিত এ পান্ডুলিপিটি তিনি হযরত আবুবকর (রা) এর নিকট অর্পণ করেন। হযরত আবুবকর (রা) এর মৃ'ত্যুর পর এ পান্ডুলিপি উম্মুল মুমেনীন হাবসার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।
![]() |
| পবিত্র আল কুরআনের সংরক্ষণ ও সংকলনের হতিহাস। ইসলামের ইতিহাস |
ভূমিকাঃ বর্তামানে আমাদের কাছে যে কুরআন শরীফ রয়েছে তা হুবাহু সেই গ্রন্থ, যা আল্লাহতাআল্লাহ হযরত জিবরাইল (আ) এর মাধ্যমে রাসূল (স) এর উপর নাজিল করেছেন।
আল্লাহতাআল্লাহ ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি কুরআন নাজিল করেছি এবং তা আমিই হেফাজত করবো। আর এ ঐশিগ্রন্থ আল কুরআন লাওহে মাহফুজে সংরক্ষিত ছিলো। রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে গ্রন্থখানা অবতীর্ণ হয়।
১. মহানবী (স) এর জীবদ্দশায় কুরআন সংরক্ষনঃ
হযরত মুহাম্মদ (স) এর নবুয়ত লাভের পর হতে প্রয়োজন ও পরিস্থিতি অনুসারে কুরআনের খন্ড খন্ড অংশ নাজিল হতো। যখন কুরআন নাজিল হতো তখন তিনি দুটি উপায়ে সংরক্ষন করতেন। পবিত্র কুরআন নাজিল হওয়ার মুহূর্তেই ওহি লেখক দ্বারা মহানবীর নির্দেশমতো পূর্বে অবতীর্ণ আয়াতের সাথে যথাস্থানে লিপিবদ্ধ করে সংরক্ষনের বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। এজন্য মহানবী (স) এর সচিবলায় ওহি লিখন বিভাগ নামে একটি স্বনন্ত্র বিভাগ প্রতিষ্ঠিত হয়। ওহি লিখন বিভাগের সাথে সার্বক্ষণিক জড়িত ছিলেন হযরত যায়েদ বিন সাবিত। তিনি বলেছেন আমি মহানবী (স) এর নিকট অবতীর্ণ ওহি চামড়ায় কিংবা খেজুরের পাতায় লিপিবদ্ধ করতাম। যায়েদ বিন সাবিত ছাড়াও প্রায় ৪০ জন ওহি লেখক ছিলেন। তখন আয়াতসমূহ তালপত্র, চামড়া, পাথর ইত্যাদিতে সংরক্ষিত হতো।
হযরত মুহাম্মদ (স) এর জীবদ্দশায় সম্পূর্ন লিখিত অবস্থায় কুরআনের অস্তিত্ব ছিলো না। কুরআন তখনও হযরত মুহাম্মদ (স) এর শিষ্যদের স্মৃতিতে ধারাবাহিকভাবে হেফাজত ছিলো। তখন সাহাবায়ে কেরামগন আয়াত নাজিল হওয়ার সাথে সাথে মুখস্ত করে রাখতেন। এভাবে তখন হাফেজদের স্মৃতিতে কুরআনের আয়াতসমূহ সংরক্ষিত হতো।
২. হযরত আবুবকর (রা) এর আমলে কুরআন সংরক্ষণঃ
৬৩৩ খ্রিস্টাব্দে আবুবকর (রা) এর সময়ে খালিদ বিন ওয়ালিদের নেতৃত্বে মুসায়লামার বিরুদ্ধে ইয়ামাময়ে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। এ যুদ্ধে বহুসংখ্যক হাফেজ শাহাদাৎ বরণ করেন। তাই হযরত ওমর (রা) হযরত আবুবকর (রা) কে কুরআন সংরক্ষনের ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানান। তখনই হযরত আবুবকর (রা) যায়েদ বিন সাবিতকে তলব করেন এবং তাঁকে কুরআনের একটি পান্ডুলিপি প্রণয়নের নির্দেশ দেন। যায়েদ বিন সাবিত বহু কষ্টে বিভিন্ন সাহাবাদের নিকট লিখিত কুরআন শরীফের বিচ্ছিন্ন পান্ডুলিপি জোগাড় করেন এবং সেগুলোকে হাফেজদের স্মৃতিতে সংরক্ষিত কুরআন শরীফের সাথে মিলিয়ে একটি প্রামাণ্য পান্ডুলিপি প্রস্তুত করেন। এটাই ছিল সমগ্র কুরআনের প্রথম সংকলন। পুস্তক আকারে সংকলিত এ পান্ডুলিপিটি তিনি হযরত আবুবকর (রা) এর নিকট অর্পণ করেন। হযরত আবুবকর (রা) এর মৃ'ত্যুর পর এ পান্ডুলিপি উম্মুল মুমেনীন হাবসার তত্ত্বাবধানে রাখা হয়।

0 Comments
দয়া করে নীতিমালা মেনে মন্তব্য করুন